এদিন প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স কমেছে দেড় শতাংশের বেশি। সূচকের পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির লেনদেন কমেছে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল সূচক কমলেও দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের শুরুর পর থেকেই বিক্রয় চাপের কারণে পয়েন্ট হারাতে থাকে সূচক। দিন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৮৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ৬৪০ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে প্রায় ৩৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১৪৬ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন ১৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১২৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ১৪৯ পয়েন্ট। গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার।
ডিএসইতে গতকাল ৮৭৬ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ২ কোটি টাকা। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৬টির, কমেছে ৩১৯টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৩৪টির।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজেটের পর থেকে দেশের পুঁজিবাজারে টানা উত্থান দেখা গেছে। এ কারণে দুদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা গেছে, যার প্রভাবে পুঁজিবাজারে দর সংশোধন হয়েছে। তাছাড়া ইরান কর্তৃক পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের উদ্দেশ্যে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিষয়টিও বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্বকে কিছুটা প্রভাবিত করেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১১ দশমিক ৮ শতাংশ দখলে নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রকৌশল খাত। বস্ত্র খাত ১১ দশমিক ২ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ১০ দশমিক ৪ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল ব্যাংক খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা সাধারণ বীমা খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৮ দশমিক ১ শতাংশ।
গতকাল সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে বিবিধ খাতের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ রিটার্ন ছিল। তাছাড়া এ সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ২ দশমিক ৯ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ২ দশমিক ৮ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
সিএসইর নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ৯৪ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ২৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ১৬৮ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৮২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২৩৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৯টির, কমেছে ১৭৪টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ২৬টির। গতকাল সিএসইতে ৭৪ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৩০ কোটি টাকা।